Tuesday, January 19, 2010

প্রয়াত জ্যোতি বসুর শেষকৃত্য সম্পন্ন, দেওয়া হলো গার্ড অফ অনার




চিরবিদায় নিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু। টানা ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন তিনি। গত রোববার সকাল ১১টা ৪৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জ্যোতি বসু। লাখো মানুষের ভালোবাসা, প্রার্থনা আর অশ্রুকে সঙ্গী করে বিদায় নিলেন কিংবদন্তি এই রাজনৈতিক নেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। বর্ষীয়ান এই কমিউনিস্ট নেতার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেল ভারতীয় রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়।

রোববার ১২টা ১০ মিনিটে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু হাসপাতালের বাইরে এসে বলেন, 'আমি একটা দুঃসংবাদ জানাচ্ছি আপনাদের। জ্যোতি বসু আর আমাদের মধ্যে নেই।' এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই কলকাতার সব রাস্তা যেন হয়ে ওঠে সল্টলেকের হাসপাতাল অভিমুখী। শোকের ছায়া নেমে আসে ভারতসহ উপমহাদেশজুড়ে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এক শোকবার্তায় তাকে আখ্যায়িত করেছেন ভারতের মহান সন্তানদের একজন হিসেবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জ্যোতি বসুর মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, তিনি হারিয়েছেন একজন অভিভাবককে। প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শেখ হাসিনা আজ কলকাতা আসেন।

গত ১ জানুয়ারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন জ্যোতি বসু। তাকে ভর্তি করা হয় বিধাননগরের আমরি হাসপাতালে। ফুসফুসে সংক্রমণ, মাঝারি ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। ইন্ট্রা-ভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছিল। কখনও স্থিতিশীল, কখনও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন জ্যোতি বসু। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য। কিন্তু তার বয়স বাদ সাধছিল। একের পর এক অঙ্গ বিকল হতে থাকায় গত শুক্রবার রাত থেকে তাকে পুরোপুরি 'লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে' রাখা হয়। হার্ট বিকল হতে শুরু করায় গত শনিবার মধ্যরাত থেকে শেষ চেষ্টা হিসেবে অস্থায়ী 'পেস মেকার' বসানো হয়। কিন্তু সে চেষ্টাও ব্যর্থ হলো। প্রয়াত নেতাকে দেখতে এরপর একে একে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, কমিউনিস্ট নেতা প্রকাশ কারাত, সীতারাম ইয়েচুরি, লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের নেতারা। যান রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও।

প্রবীণ জননেতা জ্যোতি বসুর প্রয়াণে ভারতসহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিভিতে এই খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্রই হাজার হাজার মানুষ ছুটে যান তাকে একবার দেখার জন্য এএমআরআই হাসপাতালের সামনে। জনতার ঢলে বারবার পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। উপস্থিত জনতার মধ্যে শোকের মাতম দেখা যায়। তার মরদেহ শবদেহবাহিত গাড়িতে করে হাসপাতালের বাইরে আনা হলে জনতার মধ্যে কান্নার রোল ওঠে। অনেকেই চিৎকার করে 'কমরেড জ্যোতি বসু অমর রহে' স্লোগান তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কলকাতাসহ ভারতের সিপিএম পার্টি কার্যালয়ে রক্তপতাকা অর্ধনমিত করা হয়। কলকাতাসহ রাজ্যের সর্বত্র দোকানপাট অঘোষিতভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। সব মহল্লার মোড়ে তার প্রতিকৃতিতে মালা দেওয়া শহীদ বেদি দেখা যায়। প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে তাকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশিত হয়।

আজ তার শেষ কৃত্যে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী অচ্যুতানন্দন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক স্বরকার, প্রকাশ কারাট, বৃন্দা কারাট, সীতারাম ইয়েচুরি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় তাঁকে। তারপর তাঁর মরনোত্তর দেহ দানের প্রতিশ্রুতি থাকায় এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে তাঁর নিথর দেহ তুলে দেওয়া হ্য়।

No comments:

Post a Comment