Wednesday, April 21, 2010

সম্প্রতি মুক্ত পেতে চলেছে তরুণ পরিচালক রিঙ্গো ব্যানার্জীর নতুন সিনেমা ‘যদি একদিন’। ডেটাবাজার …



সম্প্রতি মুক্ত পেতে চলেছে তরুণ পরিচালক রিঙ্গো ব্যানার্জীর নতুন সিনেমা ‘যদি একদিন’। ডেটাবাজার ডটকমের সৌজন্যে বিশ্ব জয় করতে চলেছে রিঙ্গোর এই নতুন ছবি । ডেটাবাজার মিডিয়াভেঞ্চার এর ব্যবস্থাপনায় (A media arm of US printer retailer Databazaar) উত্তর অ্যামেরিকায় নেটফ্লিক্স, ব্লকবাস্টার এবং অ্যামাজনে একসাথে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। রিলিসের প্রাক মূহূর্তে ভিন্নমতের সাংবাদিক স্বরূপ বোসের মুখোমুখি যদি একদিন সিনেমার পরিচালক রিঙ্গো ব্যানার্জী।
স্বরুপঃ “যদি একদিন” ছবির গল্পটা কীভাবে আপনার মাথায় এলো?
রিঙ্গোঃ বর্তমানে মানুষ বিভিন্ন কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করার জন্য ভীষণ ব্যস্ত জীবন যাপন করে। ফলে আমাদের সম্পর্ক গুলোকে আমরা সময় দিয়ে উঠতে পারি না। যার জন্য আমাদের সম্পর্ক গুলো একটা শেষের দিকে এগিয়ে যায়। একটা ছেলে বা মেয়ের মধ্যে একটা ইগো থাকে যার ফলে সম্পর্কটা ভালো থাকতে থাকতে হঠাৎ সম্পর্কটাকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে যায়। সেই জায়গা থেকে এই সমস্যাটাকে দেখে, শিখে বা পরিস্থিতিটাকে অনুভব করে এই সমস্যাটাকে সমাধান করার একটা চেষ্টা করা। সম্পর্ক পুনরায় আগের মত সুন্দর করে সাজিয়ে তৈরী করার একটা অনুপ্রেরণা হতে পারে এই ছবিটা।
স্বরুপঃ জীবন একটা ম্যাজিক বলতে আপনি কী বলতে চেয়েছেন?
রিঙ্গোঃ আমি বলতে চাই মানুষের জীবন জিনিসটাই একটা ম্যাজিক। ম্যাজিশিয়ানদের তিনটে ধাপ আছে। ম্যাজিশিয়ান যেমন প্রমিস করে যে একটা সাধারণ জিনিসকে অসাধারণ করে তোলে। এটা তার প্রমিস। দ্বিতীয় ধাপ হল টার্ন। মানুষকে জীবনে অনেক আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করে এগোতে হয়। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে টার্ন নিতে হয়। আমরা জীবনে অনেক ছোট ছোট প্রমিস করে থাকি। ম্যাজিশিয়ান যেমন একটা পয়সা নিয়ে ভ্যানিশ করে দেয়। দর্শকরা অপেক্ষা করে কখন তিনি সেই পয়সাটাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। সেটা দেখে দর্শকরা হাততালি দেয়। বলে বা কি দারুণ। এটা হল তৃতীয় ধাপ প্রেস্টিজ। দর্শকরা হাততালি দিল আর বললো বা কী দারুণ এটা ম্যাজিশিয়ানদের কাছে তার কাজের জন্য প্রাপ্য সন্মান। মানুষের জীবন আর ম্যাজিকের মধ্যে একটা সুন্দর মিল আছে। জীবন ছাড়া ম্যাজিক হয় না বা ম্যাজিক ছাড়া জীবন হয় না। মানুষ তার জীবন, তার ফ্যামিলির বিভিন্ন সমস্যা গুলকে খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করে এটা হল প্রমিস। সেই সমস্যাটাকে আগের মত সুন্দর করে সাজিয়ে তোলাটা হল টার্ন। সবকিছু যখন আবার ঠিক হয় সেটা প্রেস্টিজ।
স্বরুপঃ আপনার ছবির ট্রেলার দেখে বোঝা গেল এটা আর্বান থিম। তাই জানতে চাই আপনার ছবির দর্শক কারা-কলকাতায়, গ্রামবাংলায় না পশ্চিমবঙ্গের বাইরে?
রিঙ্গোঃ প্রত্যেক ছবিরই একটা ভাষা আছে। আমি বুঝি না আর্বান, মেট্রো বা মফঃস্বল বলে আমি কিছু বুঝিনা, এর মানেটা কী? আমি কল্যাণীতে বড় হয়েছি।আমার ছোটবেলা কল্যাণীতে কেটেছে। এখনআমি শহরে থাকি। তা বলে এই নয় যে আমার শেকড় বাকড় সব আমার কাছে অচেনা হয়ে গেছে। আমার পিসির বাড়ী সোদপুর খড়দার একটা রিমোট যায়গাতে। আমি এখনো যাই কল্যাণীতে। সেখানে গিয়ে আমার মিল খুঁজে পাই। মানুষের দেশ বা আবেশ বদলে গেলে মানুষ বদলে যায় বলে আমি মনে করি না। আমিমনে করি আমি যে ভাষায় কথা বলি সেই ভাষাটা এক বা আমি যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলি সেই জায়গাটা এক।
আমি মনে করি কোন দর্শক কোন ধরনের ছবি পছন্দ করে। যারা একটু মারা মারির ছবি বা যারা দক্ষিণ ভারতীয় ছবি পছন্দ করে তারা কী ছবিটা পছন্দ করবে? কারণ আমরা অভ্যাসের দাস। আমরা যেটা দেখে দেখে অভ্যস্ত সেটা দেখতেই বেশী পছন্দ করি। ফলে সেটা দেখেই অভ্যস্ত হয়ে যাই। ফলে নতূন ছবি দেখার জন্য আমরা আমাদের গণ্ডি টা পেরোতে পারবো না এটা ভাবা ভূল। সুতরাং বাংলা ছবি শুধু কলকাতাতেই চলবে এটা ঠিক নয়। তাজমহল আমরাও দেখি আবার বিদেশীরাও দেখেন। তাজমহটা ভালো বলেই সবারই ভাল লাগে। রবীন্দ্র সঙ্গীত আমরাও শুনি আবার বিদেশেও শোনে। এ আর রহমানের মিউজিক সবাই শোনে। যারা বাংলা ভাষা বোঝেন বা যারা বাংলা সিনেমাকে ভালবাসেন তারা অবশ্যই ছবিটা দেখবেন বলে আমি আশা রাখি।
স্বরুপঃ আপনার এই বাংলা ছবি কী বাংলা ছাড়া বাংলার বাইরে পা রাখছে?
রিঙ্গোঃ হ্যাঁ বাংলা ছবি ডেটাবাজার মিডিয়া ভেঞ্চারের মাধ্যমে বাংলার বাইরে উত্তর আমেরিকাতেও রিলিজ করছে। এটা বাংলা ছবির ক্ষেত্রে একটা বড় পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি।
Tags:
Share Twitter Facebook

No comments:

Post a Comment