
জ্যোতিবাবু না ছত্রধর-আসল জননেতা কে?এই প্রশ্ন তোলার এটা হয়ত সঠিক সময় না। তবুও তোলা উচিত।
ছত্রধরের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক আকাউন্ট, কোটি টাকা ইত্যাদি পশ্চিম বঙ্গের পুলিশ রটিয়েছে। যাদের নুন্যতম বিশ্বাসযোগ্যতাও নেই। শত্রু নিধনের সব ধরনের অনৈতিক এবং মিথ্যাচার সিপিএম করে থাকে। ছত্রধরের ওপর ক্যারাকটার এসাশিনেশনও ব্যাতিক্রম না। কিন্ত এই ভাবে মিথ্যে মামলা সাজিয়ে এটা ঢাকা যায় না কিভাবে সিপিএমের নেতারা আদিবাসিদের উন্নয়নের টাকা পকেটস্থ করেছেন। শুধু জঙ্গল মহল কেন। জলঙ্গীতে পদ্মার ভাঙনের টাকাতেও নেতাদের যে বিশাল বিশাল বাড়ি উঠেছে-আপনারা জাস্ট গিয়ে দেখে আসুন। নেতৃত্বের এই পচন এবং তাদের গা থেকে বেড়নো পচা মাছের গন্ধ, পুলিশ, আজকাল, গণশক্তি, ২৪ ঘন্টা দিয়েও সিপিএম ঢাকতে পারবে না।
ছত্রধর এই অন্যায় এবং শোষনের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষের, তার নিজের মানুষদের মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন। ছত্রধর মাহাতো সিপিএমের এই কামানো যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই সাপের সহস্র ফণা তার দিকে হিস হিস করে উঠল-তাদের কোন মুখের নাম আজকাল, কারোর নাম ২৪ ঘণ্টা। এটাই রাষ্ট্রের আসল স্বরূপ। তাই ছত্রধর মিডিয়ার চোখে হলেন ভিলেন। আর জ্যোতিবসু-যিনি সস্নেহে পার্টি এবং নিজের পুত্রের সব ধরনের ঠিকাদারি ( পড়ুন জনগণের পকেট চুরি) অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতন অনুমোদন করেছেন, তিনি হলেন জননেতা।
হ্যা জননেতা হলেন জ্যোতিবসু-যার নেতৃত্বে পঞ্চায়েতে গরীব লোকেদের বরাদ্দ মেরে পার্টির নেতা ক্যাডারদের বাড়িঘর হল।আপনি বলবেন, উনার কি দোষ। উনিত সৎ ছিলেন। ধৃতরাষ্ট্রও কি অসৎ ছিলেন? দ্রোপদীর বস্ত্র হরণের সময় বাছা তোরা ঠিক করছিস না টাইপেরআব্বুলি করে গেছেন। অসৎ না-অকর্মনার প্রশ্রয়। যারা জনগনের পকেটমারদের নেতা তিনি-সেই অর্থে জননেতা ত বটেই। চোখ ছিল দিল্লীর সিংহাসনে। ক্ষমতার জন্যে বাজপেয়ীর হাত ধরে রাজীবের বিরুদ্ধে বাস্তববাদি 'বিরোধি' আন্দোলনও করেছেন। সিপিএম-সিপি আই বিভেদে সিপিএমে এলেন-কারন এখানে তার ভবিষ্যত ছিল-সিপি আই এ ছিল না। একজন আগাপাস্তা মধ্যম মেধার ধান্দাবাজ হয়ে উঠলেন জননেতা। আর আদিবাসিদের জন্যে, তাদের শোষনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছত্রধর হচ্ছেন রাষ্ট্রের চোখে দেশদ্রোহী। রাষ্ট্র যন্ত্রের এটাই আসল স্বরূপ। ক্ষমতাশীলদের বাস্তঘুঘুতে যে আঘাত দেবে সে হচ্ছে দেশোদ্রোহী-আর যিনি এই চক্রটাকে ভাল করে চালাতে পারবেন, তিনিই হচ্ছে জননেতা।
No comments:
Post a Comment